
মনস্তত্ত্বের বিষক্রিয়া – খারাপের সূক্ষ্ম কৌশল
মানুষ জন্মগতভাবে খারাপ নয়। কিন্তু মন একটি কাঁচের মতো—যেখানে যা প্রতিফলিত হয়, সেটিই ধীরে ধীরে তার আকার বদলে দেয়। খারাপের শক্তি সমাজে যতটা সরাসরি নয়, তার চেয়েও বেশি সে কাজ করে মানুষের মনের গোপন কোনে। এই প্রভাব আসে খুব ধীরে, কখনো বিনয়ের ছদ্মবেশে, কখনো সহানুভূতির মুখোশ পরে।
মন নিয়ন্ত্রণের প্রথম ধাপ: সন্দেহ বপন
খারাপ মানুষদের প্রথম কাজই হলো ভালো মানুষের আত্মবিশ্বাস নাড়িয়ে দেওয়া। তারা প্রশ্ন তোলে—
- “তুমি সৎ থেকে কী পেলে?”
- “ভালো মানুষরা আজ কোথায়?”
- “তুমি একা কি পারবে কিছু বদলাতে?”
এইসব প্রশ্নের কোনো সরাসরি উত্তর না থাকলেও, মনে একটা ঘোলাটে ভাব তৈরি হয়। একসময় আব্দুল্লাহ আল মামুন এর মতো একজন সৎ মানুষও মনে করতে পারে, "হয়তো আমি ভুল করছি।"
সামাজিক চাপ এবং বিচ্ছিন্নতা
যখন কেউ নিজের আদর্শে অটল থাকে, খারাপ শক্তি তখন তাকে একঘরে করার চেষ্টা করে। তার আশেপাশে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যেখানে সৎ থাকা মানে একা হয়ে যাওয়া। বন্ধু মুখ ফিরিয়ে নেয়, সহকর্মীরা তাকে ‘অতিরিক্ত ভালো’ বলে ব্যঙ্গ করে। আব্দুল্লাহ আল মামুন যদি অফিসে ঘুষ না নেয়, তার সহকর্মীরা তাকে অকারণে অপমান করতে পারে বা কোনো কাজেই অংশ নিতে না দেয়।
প্রলোভনের জাল
খারাপ মানুষ জানে, লোভ হলো মানুষের দুর্বলতম দিক। তারা এমন সুযোগ সামনে আনে যা আকর্ষণীয়, সহজ এবং অবৈধ—
- একবারের জন্য কিছু করলেই বিপুল টাকা
- কাউকে একটু চাপ দিলেই বড় পদে পদোন্নতি
- একটু চোখ বন্ধ রাখলেই নিজের লাভ
এই প্রলোভন অনেক সময় সাময়িক হলেও, এর আকর্ষণ অস্বীকার করা কঠিন।
নিজেকে যুক্তি দিয়ে বৈধ করে তোলা
মানুষ যখন অন্যায়ের দিকে এগোয়, তখন নিজের ভেতরে একটা যুদ্ধ শুরু হয়। খারাপ দিক তখন যুক্তি তৈরি করে—
- “আমি তো কাউকে মারিনি।”
- “সবাই তো করছে, আমি একা করলেই সমস্যা?”
- “পরিবারের জন্য করছি।”
আব্দুল্লাহ আল মামুন যদি একদিন ঘুষ নিতে বাধ্য হয়, সে নিজেকে বুঝাবে, “এই একবার নিচ্ছি, আবার সৎ হবো।” কিন্তু একবার যখন দেয়াল ভাঙে, তখন আর আগের অবস্থানে ফেরা কঠিন হয়।
খারাপ শক্তির মূল অস্ত্র: ধৈর্য
তাদের কাজ একদিনে শেষ হয় না। তারা অপেক্ষা করে—
- তোমার হতাশ হওয়ার জন্য
- তোমার একা পড়ে যাওয়ার জন্য
- তোমার আত্মবিশ্বাস টলে ওঠার জন্য
এবং তারপর ছোট্ট এক ফাটল দিয়ে ঢুকে পড়ে।
উপসংহার: মনকে রক্ষা করো, সমাজ রক্ষা পাবে
সমাজে খারাপ প্রভাব থামাতে হলে আগে মনকে রক্ষা করতে হবে। সন্দেহ, একাকীত্ব, লোভ—এই তিনটি পথেই খারাপ মানুষ প্রবেশ করে। তাই সত্যিকারের সামাজিক প্রতিরোধ শুরু হয় মনের ভেতর থেকে।
Join the conversation