জরুরি সংবাদ পাঠান: info@dailytotthotorongo.com আপনার এলাকার চোখ ও কান হতে পারেন! আপনার কাছ থেকে আসা প্রতিবেদন আমাদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। ছবি, ভিডিওসহ আপনার সংবাদ পাঠান — আমরা মনোযোগ দিয়ে যাচাই-বাছাই করব এবং যে গুলো প্রকাশ যোগ্য সে গুলো প্রকাশ করবো। আসুন, একসাথে সত্যিকার অর্থে মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠি। ✉️ ই-মেইল করুন: info@dailytotthotorongo.com

রাজনীতির অন্ধকার করিডর

অন্ধকার করিডরে সত্যবাদী মানুষের সংগ্রাম অনেকটা নদীর উল্টো স্রোতে নৌকা চালানোর মতো। প্রতিটি স্রোতই তাকে পেছনে টানতে চায় ধমক, হুমকি, মিথ্যা প্রচার।
প্রকাশ: 12/04/2025 01:49:00 pm

দৈনিক তথ্য তরঙ্গ

সত্যের পথে নির্ভীক সংবাদ

রাজনীতির অন্ধকার করিডর

অন্ধকারে আলোর মানুষ।

রাজনীতির অন্ধকার করিডর যত গভীরই হোক, সেখানে কিছু মানুষ আছেন যারা আলো হাতে হাঁটেন। তারা সংখ্যায় কম, কিন্তু মূল্যবোধে বিশাল। একজন সত্যবাদী নেতা যখন এই অন্ধকার করিডরে প্রবেশ করেন, তখন তিনি যেন অন্ধকারের ভেতরে জ্বালানো একটি প্রদীপ। শত্রু বাড়ে, প্রতিকূলতা বাড়ে, গুজব বাড়ে কিন্তু তবুও তারা আলোর পথ ছাড়েন না।

আব্দুল্লাহ আল মামুন একবার বলেছিলেন,
"রাজনীতিতে সৎ থাকা সবচেয়ে কঠিন কাজ, কারণ সত্য বললে তুমি বন্ধু হারাবে, কিন্তু নিজের আত্মাকে হারাবে না।"
এই কারণেই সত্যবাদীরা দলে কম হলেও সমাজে তাদের সম্মান চিরস্থায়ী থাকে।

অন্ধকার করিডরে সত্যবাদী মানুষের সংগ্রাম অনেকটা নদীর উল্টো স্রোতে নৌকা চালানোর মতো। প্রতিটি স্রোতই তাকে পেছনে টানতে চায় ধমক, হুমকি, মিথ্যা প্রচার, ভোট হারানোর ভয় সবই তার পথ কঠিন করে। তবু সে এগিয়ে যায় কারণ তার লক্ষ্য ক্ষমতা নয়, জনগণ।

জনগণের ভূমিকা: অন্ধকার ভাঙার চাবিকাঠি

রাজনৈতিক অন্ধকারের জন্য শুধু নেতারা দায়ী নয়, জনগণও দায়ী। আমরা প্রায়ই দেখি

  • মিথ্যা প্রতিশ্রুতি শুনে খুশি হই
  • সামান্য সুবিধার আশায় দুর্নীতিবাজকে সমর্থন করি
  • অন্যায় দেখেও চুপ থাকি
  • সৎ মানুষকে "দূর্বল" মনে করি
আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,
"জনগণ যখন নীতিহীন মানুষকে নেতা বানায়, তখন নিজেদের জীবনটাই ধ্বংস করে।"
এ কথা গভীর সত্য। কারণ জনগণ যে চরিত্রের মানুষকে নেতৃত্বে বসায়, তারাই ভবিষ্যৎ গড়ে।

অন্ধকার করিডর ভাঙতে হলে জনগণকে প্রথমে নিজের বিবেক জাগাতে হবে। প্রশ্ন করতে হবে,
"সে কি সৎ? সে কি প্রতিশ্রুতি রেখেছে? সে কি জনগণের পাশে আছে?"

যখন জনগণ সৎ মানুষকে সমর্থন করবে, অন্ধকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে যাবে।

মিডিয়ার ভূমিকা: সত্যের আলো না মিথ্যার ছায়া?

রাজনীতির অন্ধকার টিকে থাকে মূলত দুটি মাধ্যমে
১. দলবাজি
২. পক্ষপাতদুষ্ট মিডিয়া

মিডিয়া যদি সত্য তুলে না ধরে, বরং ভয় পেয়ে চুপ থাকে বা সুবিধার জন্য মিথ্যা প্রচার করে, তাহলে সমাজে অন্ধকার আরও ঘনীভূত হয়।

আব্দুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকতার শিক্ষায় শিখেছিলেন:
"মিডিয়া যদি নীরব হয়, সমাজ অন্ধ হয়ে যায়।"

কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় অনেক মিডিয়া ক্ষমতার কাছে নতজানু। সত্য প্রকাশ করা কঠিন হয়ে ওঠে, কারণ বিজ্ঞাপন–চাপ, রাজনৈতিক চাপ, মালিকপক্ষের চাপ সব মিলিয়ে একটি নীরবতা তৈরি হয়।

একজন সৎ রাজনীতিবিদ যতই চেষ্টা করুক, মিডিয়া যদি তাকে সুযোগ না দেয়, জনগণ সত্য জানতে পারবে না।
তাই অন্ধকার ভাঙতে হলে মিডিয়াকে সাহসী হতে হবে সত্য তুলে ধরতে হবে, গোপন থাকা তথ্য প্রকাশ করতে হবে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম চালাতে হবে।

দলবদ্ধ গোষ্ঠী ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি

রাজনীতির অন্ধকার করিডরে সবচেয়ে বিপজ্জনক জিনিস হলো গোষ্ঠীবাদ।
গোষ্ঠী তৈরি হয় লোভ, স্বার্থ, ও ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে।
তারা একসঙ্গে থাকে একটাই কারণে স্বার্থ রক্ষা।

আব্দুল্লাহ আল মামুন একবার স্থানীয় রাজনীতিতে দেখেছিলেন, একই দলে থেকেও দুই পক্ষ এমনভাবে লড়াই করছে যেন তারা শত্রু।
এক পক্ষ বলছে তারা "জনগণের দল", আরেক পক্ষ বলছে তারা "নেতার দল।"
কিন্তু আসল সত্য হলো:
তারা কেউই জনগণের নয়, তারা নিজেদের স্বার্থের জন্য লড়াই করছে।

এই ধরনের গোষ্ঠীবাদ দেশকে পিছিয়ে দেয়। উন্নয়ন থেমে যায়, ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত হয়, সাধারণ মানুষ ভোগে।

রাজনীতির ছায়ার নিচে দুর্নীতির বিস্তার

যেখানে অন্ধকার, সেখানেই জন্ম নেয় দুর্নীতি।
রাজনীতির অন্ধকার করিডর দুর্নীতিবাজদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়।
তারা জানে

  • ক্ষমতা আছে
  • প্রভাব আছে
  • মামলা হলে মুক্তি আছে
  • ভুল করলেও বিচার হবে না
এই নিরাপত্তাবোধই মানুষকে অপরাধে উৎসাহিত করে।

আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেছিলেন,
"যে দেশে অপরাধীর ভয় নেই, সেই দেশেই সবচেয়ে বড় ভয় সাধারণ মানুষের।"

রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা যখন দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে, তখন সেটি সমাজের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে পড়ে
নিয়োগে ঘুষ, টেন্ডারে অনিয়ম, প্রশাসনে দুর্নীতি, আদালতে প্রভাব সবই রাজনীতির ছায়াতলে ঘটে।

তরুণদের ভয় এবং আকাঙ্ক্ষা

আজকের তরুণরা রাজনীতি নিয়ে হতাশ।
তারা ভাবে রাজনীতি মানেই

  • মিথ্যা
  • দুর্নীতি
  • মারামারি
  • স্বার্থ

কিন্তু সত্য হলো, রাজনীতি যদি নীতিবান মানুষের হাতে যায়, তবে দেশ বদলে যায়।
তবে তরুণরা রাজনীতিকে ভয় পায়, কারণ পরিবার ও সমাজ শেখায়
"রাজনীতি মন্দ লোকের জায়গা।"

আব্দুল্লাহ আল মামুন এক তরুণকে বলেন,
"তুমি যদি রাজনীতিকে বদলাতে চাও, তবে বাইরে নয়‌ ভেতর থেকেই বদলাতে হবে।"
এই কথাটি সত্যিই বাস্তব। কারণ তরুণরা যদি দূরে সরে যায়, অযোগ্যরা রাজনীতি দখলে রাখবে।

আশার আলো: পরিবর্তনের সূচনা কোথা থেকে?

অন্ধকার যত গভীরই হোক, আলো একদিন আসে।
রাজনীতির অন্ধকার করিডরেও পরিবর্তন আসে যখন

  • সৎ মানুষ উঠে আসে
  • জনগণ সচেতন হয়
  • মিডিয়া সত্য বলে
  • তরুণরা এগিয়ে আসে
  • দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়
এই পরিবর্তন রাতারাতি আসে না। ধীরে ধীরে আসে।
কিন্তু শুরু হয় একজন মানুষ থেকে যে সত্য বলে, যে ভয় পায় না, যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়।

আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,
"একটি মোমবাতি অন্ধকার দূর করতে পারে না, কিন্তু অন্ধকারের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করে।"
সত্যবাদীদের এই লড়াইই একদিন অন্ধকার করিডর ভেদ করবে।

আমি আপনাকে কিভাবে সাহায্য করতে পারি?
Type here...
-->