বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থান মাস
দৈনিক তথ্য তরঙ্গ
সত্যের পথে নির্ভীক সংবাদ
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থান মাস' উদ্যাপন: ঐতিহ্য, প্রতিবাদ ও পরিবেশচেতনতার সম্মিলন
ঢাকা, বাংলাদেশ | ১ জুলাই ২০২৫ — বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গৌরবোজ্জ্বল একটি অধ্যায় 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থান'। সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে স্মরণে রেখে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) ২০২৫ সালের জুলাই মাসকে 'গণ-অভ্যুত্থান স্মরণ মাস' হিসেবে উদ্যাপন করছে। মাসব্যাপী কর্মসূচির সূচনা হয়েছে একটি প্রতীকী র্যালি এবং পরিবেশবান্ধব বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের মাধ্যমে।
১৯৭০-এর দশকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক চেতনার উন্মেষ ও সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধের যে শক্তিশালী আবির্ভাব হয়েছিল, তা-ই 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থান' নামে ইতিহাসে স্থান পেয়েছে। বিএমইউর উদ্যোগ সেই ইতিহাসকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি প্রতিশ্রুতিশীল প্রচেষ্টা।
সকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে শুরু হয় একটি সুসজ্জিত র্যালি। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেন। র্যালিটি হাসপাতাল ভবনের সম্মুখ পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়, যেখানে প্রতীকী ব্যানার, ইতিহাসভিত্তিক স্লোগান ও জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি দৃশ্যত আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।
র্যালির পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। এতে ফলজ, বনজ এবং ঔষধি বৃক্ষের শতাধিক চারা রোপণ করা হয়। এই কর্মসূচি মূলত ইতিহাস স্মরণের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ, বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকারকে সামনে আনে।
"জুলাই গণ-অভ্যুত্থান আমাদের আত্মপরিচয়ের বীজতলা। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণদের দায়িত্ব—এই সংগ্রামের ইতিহাস মনে রাখা এবং তা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা।"
- অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম, উপাচার্য, বিএমইউ
"দেশ গঠনের পূর্বশর্ত হচ্ছে ঐক্য ও গণতান্ত্রিক চেতনা। সেই চেতনার বীজ ছড়িয়ে দিয়েছিল এই আন্দোলন।"
- অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন)
'গণ-অভ্যুত্থান মাস' উপলক্ষে বিএমইউ নানা কার্যক্রম হাতে নিয়েছে:
- রক্তদান কর্মসূচি ও স্ক্রিনিং ক্যাম্প
- মুক্তিযুদ্ধ ও গণ-আন্দোলনের আলোকচিত্র প্রদর্শনী
- জাতীয় ঐতিহাসিক ঘটনা নিয়ে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা
- রোগীদের জন্য উন্নত মানের খাদ্য বিতরণ
- দোয়া ও মিলাদ মাহফিল
- বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও কর্মীদের পরিবেশ সচেতনতামূলক সেমিনার
এই আয়োজন শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠান নয়—এটি বাংলাদেশের দীর্ঘ সংগ্রামী ইতিহাসের প্রতিধ্বনি। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যেখানে গণতন্ত্র, নাগরিক অধিকার ও প্রতিবাদী চেতনার গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে, সেখানে বিএমইউর এমন উদ্যোগ একটি বৈশ্বিক বার্তা দেয়: "সুশাসনের জন্য প্রতিবাদ, পরিবেশের জন্য উদ্যোগ, ভবিষ্যতের জন্য ঐক্য।"
Join the conversation